ই-পেপার

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: October 22, 2017

ঝালকাঠিতে সাংবাদিক হিমু পেলেন
শিল্পকলা একাডেমি গুণীশিল্পী সম্মাননা
সূর্যালোক নিউজ : ফটোগ্রাফিতে বিশেষ অবদান রাখার জন্য ঝালকাঠিতে সাংবাদিক হেমায়েত উদ্দিন হিমুকে জেলা শিল্পকলা একাডেমি গুণীশিল্পী সম্মাননা দেয়া হয়েছে। শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু শনিবার রাতে শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত সপ্তাহব্যাপী জেলা সাংস্কৃতিক উৎসব ও প্রতিযোগিতার সমাপনী এবং গুণীশিল্পী সম্মননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে হিমুর হাতে সম্মাননা স্মারক, সনদপত্র, ১০ হাজার টাকার চেক ও উত্তরীয় তুলে দেন। সাংস্কৃতিক উৎসব কমিটির আহ্বায়ক (উপপরিচালক, স্থ’ানীয় সরকার) দেলোয়ার হোসেন মাতুব্বরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হক, পুলিশ সুপার মোঃ জোবায়েদুর রহমান, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সরদার মোঃ শাহ আলম, জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খান সাইফুল্লাহ পনির ও পৌরমেয়র মোহাম্মদ লিয়াকত আলী তালুকদারসহ জেলার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য একই অনুষ্ঠানে হিমু ছাড়াও ১৪ জনকে গুণীশিল্পী সম্মাননা দেয়া হয়।

হিমুর জীবন বৃত্তান্ত :  মুক্তমনা আলোকচিত্রী হেমায়েত উদ্দিন হিমুর ক্যামেরার চোখসহ সব কর্ম, সব পথ, ‘মানুষ’ ঘিরে। বর্ণাঢ্য জীবনে সাংবাদিকতা পেশার পাশাপাশি সংস্কৃতিজন, মানবাধিকারকর্মী, দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের সৈনিক, সমাজ সংগঠক,  শিশুসংগঠক, ক্রীড়াসংগঠক, উন্নয়নকর্মী। শিশুকালে ফটোগ্রাফিতে ‘হাতেখড়ি’ বাবার কাছে। বহুদিন ফটোস্টুডিও পরিচালনা করেছেন। সাংবাদিকতার বয়স ৪০ বছর। বর্তমানে বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) জেলা প্রতিনিধি ও সূর্যালোক নিউজের সম্পাদক। এছাড়া দৈনিক বাংলা, যুগান্তর, মুক্তকন্ঠ, দৈনিক দেশ, ইউএনবি, এপিবি, বিডি নিউজ, মাছরাঙা টিভির প্রতিনিধি ও সাপ্তাহিক সূর্যালোক পত্রিকার সম্পাদক-প্রকাশক ছিলেন। পেশার কারণে তোলা অসংখ্য ছবি বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে। ‘শখের ফটোগ্রাফার’ হিসেবেও কাজ করে যাচ্ছেন।

তিনি টিআইবির সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সহ-সভাপতি, সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক এর জেলা সভাপতি, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার্স ফোরামের (এইচআরডিএফ) আহ্বায়ক, এডাবের জেলা চেয়ারম্যান, সূর্যালোক ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক, তথ্য কমিশনের ‘রিসোর্স পারসন’ ও টেলিভিশন সাংবাদিক সমিতির আহ্বায়ক। এছাড়াও তিনি সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন কার্যক্রমে জড়িত। তিনি আগে প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক (১২ বছর), জেলা শিশু একাডেমির সম্পাদক (৭ বছর), রেডক্রিসেন্ট ইউনিটের সেক্রেটারি, জেলা ক্রীড়া সংস্থ’ার কোষাধ্যক্ষ (১৩ বছর), জেলা শিল্পকলা একাডেমির নির্বাহী সদস্য, বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, এমএমসির আঞ্চলিক প্রোগ্রাম অফিসার ও জেলা প্রতিনিধি; এফপিএবি ইউনিটের অবৈতনিক কোষাধ্যক্ষ, মানবাধিকার কমিশনের জেলা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

ঝালকাঠি সদর উপজেলার পোনাবালিয়া ইউনিয়নের দেউরী গ্রামে জন্ম ১৯৬২ সালের ২৫ অক্টোবর। তবে ছোটবেলা থেকেই বসবাস শহরে। বাবা হাবিবুর রহমান নামকরা ফটোগ্রাফার ও ফটোব্যবসায়ী ছিলেন। মা সফুরা বেগম গৃহিনী। নয় ভাই-বোনের মধ্যে হিমু দ্বিতীয়। শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএ। বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। স্ত্রী ইয়াসমীন আক্তার কচি শিশু বিদ্যালয়ের শিক্ষক। দুই সন্তানের মধ্যে জান্নাতিন নাঈম দীপ অনলাইন পত্রিকার সম্পাদক এবং আশিক হৃদয় অর্ক এইচএসসি পাস করেছে।

হিমু সাংবাদিকতা ও গবেষণায় ২০১৩ সালে ঢাকাস্থ শেরে বাংলা স্মৃতি একাডেমি পদক. সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য ‘প্রতিভা-ললিত বাবু স্মৃতি গুণীজন সম্মাননা-১৪২২ বঙ্গাব্দ’, ২০০৯ সালে ঝালকাঠি জেলা পল্লী চিকিৎসক কল্যাণ সমিতির শ্রেষ্ঠ সাংবাদিকতা পুরস্কার, ১৯৮৯ সালে পটুয়াখালীতে অনুষ্ঠিত পিআইবি-প্রেস ক্লাব আয়োজিত সংবাদ লেখা প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থ’ান, ঝালকাঠি সরকারি কলেজ সাহিত্য-সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়নসহ বিভিন্ন সময়ে সাহিত্য-সংস্কৃতি ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পেয়েছেন।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ‘সারা দেশের লোক সংস্কৃতি বিষয়ক প্রকাশনা’ এর আওতায় ‘ঝালকাঠির লোক সংস্কৃতি’ বিষয়ক তথ্য সংগ্রহ ও লেখা এবং ছবি তোলা ও ছবি সংগ্রহ কাজে অংশ নেন। এ সংক্রান্ত পান্ডুলিপি প্রকাশনার জন্য শিল্পকলা একাডেমিতে জমা। কৈশোরে কয়েকটি নাটকে অভিনয় করেছেন। তাঁর সম্পাদনায় অনেকগুলো ম্যাগাজিন বের হয়েছে। প্রকাশিত হয়েছে অনেক ফিচার, প্রবন্ধ, ছড়া, কবিতা, ছোটগল্প। ১৯৮৪ সালে মরণোত্তর চক্ষুদানে অঙ্গীকারাবদ্ধ হন। স্বেচ্ছায় রক্ত দিয়েছেন ২৮ বার।

সম্মাননাপ্রাপ্ত গুণীশিল্পীরা হলেন- ২০১৩ সাল : পতিত পাবন নট্ট (যন্ত্রসঙ্গীত), মহাদেব কর্মকার (নাট্যকলা), চিত্তরঞ্জন দত্ত (চারুকলা), সুভাষ চন্দ্র দাস (আবৃত্তি) ও বীণা রায় (কন্ঠসঙ্গীত)। ২০১৪ সাল : মনোয়ার হোসেন খান (লোকসংস্কৃতি), মুহম্মদ শামছুল হক (আবৃত্তি), আবদুল হক বয়াতী (কন্ঠসঙ্গীত), কাজী মোঃ শফিকুল ইসলাম (নাট্যকলা) ও মিলন কুমার দাস (যন্ত্রসঙ্গীত)। ২০১৫ সাল : মাসুদ আলম খান (নাট্যকলা), শিবনাথ বিশ্বাস (চারুকলা), হেমায়েত উদ্দিন হিমু (ফটোগ্রাফি), মোঃ মনির হোসেন মিন্টু (কন্ঠসঙ্গীত) ও মোঃ মেসবাহ উদ্দিন খান (যন্ত্রসঙ্গীত)

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন