ই-পেপার

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা-মূল্যবোধকে ধ্বংস করে বাংলাদেশকে পিছিয়ে দিতেই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছিল : শিল্পমন্ত্রী আমু

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: August 18, 2017

সূর্যালোক নিউজ (১৮ আগস্ট’১৭) : শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, স্বাধীনতার পরাজিত শক্তিরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধকে ধ্বংস করা ও মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির স্বাদ ধুলিস্যাত করে বাংলাদেশকে পিছিয়ে দেয়ার জন্যই, দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে, পচাত্তরের পনের আগস্ট পৃথিবীর ইতিহাসের নৃশংস হত্যাকান্ডের মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করেছে। বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে এতদিন আমাদেরকে অপেক্ষা করতে হতো না। ১৯৮৫ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতো।

শিল্পমন্ত্রী আজ (শুক্রবার) বিকালে ঝালকাঠিতে বঙ্গবন্ধুর ৪২তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত শোক সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তৃতাকালে এ কথা বলেন।

ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সরদার মোঃ শাহ আলমের সভাপতিত্বে সাধনা চৌমাথায় অনুষ্ঠিত বিশাল শোক সভায় জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোবারক হোসেন মল্লিক, ঝালকাঠি সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ সুলতান হোসেন খান, ঝালকাঠি পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ লিয়াকত আলী তালুকদার, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়িকা ও সদর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ইসরাত জাহান সোনালী, জেলা যুবলীগের যুগ্মআহ্বায়ক রেজাউল করিম জাকির, জেলা যুবমহিলা লীগের আহ্বায়িকা লুৎফুন্নাহার লুনা, জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মোঃ শফিকুল ইসলাম প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খান সাইফুল্লাহ পনির, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খান আরিফুর রহমান ও সালাহউদ্দিন আহমেদ সালেক, শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন, জেলা কৃষকলীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান রসুল, নলছিটি উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ডালিয়া নাসরীন এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, কৃষকলীগ, শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ মহিলা আওয়ামী লীগ, যুবমহিলা লীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তরুণ কর্মকার ও জেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিল অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।

শিল্পমন্ত্রী আমু বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দীর্ঘ ২১ বছর যারা ক্ষমতায় ছিল তারা দেশের কোন উন্নয়ন করেনি। জিয়াউর রহমান ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই প্রতিহিংসার রাজনীতি শুরু করেন। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পুরস্কৃত করা, রাজাকারদের পুনর্বাসনসহ মন্ত্রীত্ব দিয়ে পাকিস্তানের ভাবধারায় দেশ পরিচালনা করেন। তারই ধারাবাহিকতায় তার স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও বাংলাভাই-জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করাসহ সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টিসহ বাংলাদেশকে নব্য পাকিস্তান বানানোর অপচেষ্টা করেছে।

আমির হোসেন আমু বলেন, এখনো ষড়যন্ত্র চলছে। যে চক্র বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে সে চক্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও হত্যা করার জন্য ১৯ বার চেষ্টা করেছে। আল্লাহ তায়ালা তাকে রক্ষা করেছেন। শেখ হাসিনা বেঁচে আছেন বলেই দেশের সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফুটেছে। বাংলাদেশ আজ সারাবিশ্বে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তার বলিষ্ট নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল। দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থেই শেখ হাসিনার হাতকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন